গালী-গালাজ নিয়ে ইসলামিক গল্প এবং ব্যাখ্যা
এক ব্যাক্তি অন্য এক ব্যাক্তিকে প্রচুর গালাগালি করতে লাগলো৷ এই সে ব্যাক্তি যে কথায় কথায় মানুষকে গালি দিয়ে অভস্ত্য! যখন, অপর ব্যাক্তি এই গালিবাজকে উল্টো গালি দিলো তখন সে আবার গালি দিতে দিতে বললো আমি কি তাকে গালি দিয়েছি? আপনারা সবাই তো দেখছেন আমি কি এই কে গালি দিয়েছি? এখন প্রিয় পাঠক আপনারাই বলেন স্থানে উনি যা বললেন তা কি আপ্যায়ন ছিলো? এখন প্রত্যক্ষদর্শীরা কি বলবে?- তারা চুপ করে ছিলো।
Quran
যে ব্যাক্তি কথায় কথায় গালি দেয় সেও গালি দেয়াকে নিজের জন্য পছন্দ করে না! অথচ, সে নিজেই প্রতিনিয়ত কথায় কথায় গালি দেয়। যেমনঃ- একজন নাস্তিক বিপদে পড়লেও সৃষ্টিকর্তাকে স্বরণ করে থাকে।
কুরআনে এই নিয়ে যা বলা হয়েছেঃ-
"তোমরা পরষ্পর কটুবাক্য প্রয়োগ করো না। একে অপরকে মন্দ উপাধিতে ডেকো না। ঈমান গ্রহণের পর এ গুনাহসমূহ কতই না জঘন্য! যারা এ সকল পাপ থেকে তাওবা করে না, তারা যালিম’ (সুরা আল-হুজরাত, আয়াত ১১)
"অভিশাপ তাদের প্রতি, যারা কটুবাক্য প্রয়োগ করে ও পরনিন্দা করে।" (সুরা হুমাযা, আয়াত ১)।
আয়াত আলোকে স্পষ্ট যে কটুবাক্য বা, গালমন্দ করা কতটা ঘৃণিত কাজ। আল্লাহ্ পাক রাব্বুল আল-আমিন কুরআনে তা করতে স্পষ্টভাবে বারণ করেছেন। যদিও কেউ ইতিপূর্বে এমনটা করে থাকে তাকে তওবা করার জন্য বলা হয়েছে। কেননা আল্লাহ্ কুরআনে আরো বলেনঃ-
"তিনিই তো স্বীয় বান্দাদের তওবা কবুল করেন এবং পাপগুলো ক্ষমা করে দেন।" (সূরা শূরা, আয়াত: ২৫)
নিম্নে কিছু হাদিসের আলোকে গালাগালি সম্পর্কে জানা যাকঃ-
"মুনাফিকরা বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীলভাবে গালাগালি করে।" (বুখারী-২২৫৯, মুসলিম ১/২৫)
"মুমিন কখনো দোষারোপকারী, অভিশাপদাতা, অশ্লীলভাষী ও গালিগালাজকারী হয় না।" (তিরমিজি, হাদিস নং : ২০৪৩)
‘মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকি [আল্লাহর অবাধ্যাচরণ] এবং তার সঙ্গে লড়াই ঝগড়া করা কুফরি। ’ (বুখারি, হাদিস নং: ৬০৪৫, ৭০৭৬; তিরমিজি, হাদিস নং: ১৯৮৩)
"কবিরা গুনাহগুলোর একটি হলো নিজের বাবা-মা’কে অভিশাপ করা। ’ জিজ্ঞেস করা হল, আল্লাহর রাসুল! মানুষ নিজের বাবা-মা’কে কিভাবে অভিশাপ করে?’ তিনি বললেন, ‘যখন সে অন্যের বাবাকে গালি-গালাজ করে, তখন সে নিজের বাবাকেও গালি-গালাজ করে থাকে। আর সে অন্যের মা-কে গালি দেয়, বিনিময়ে সে তার মা-কেও গালি দেয়।" (বুখারি, হাদিস নং: ৫৯৭৩, তিরমিজি, হাদিস নং: ১৯০২)
উল্লেখিত হাদিস সমূহের মধ্যে শেষ হাদিস দিকে লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাই এই যে কেউ অন্যর মা,বাবাকে গালি দেয়ার মানেই হচ্ছে নিজের মা,বাবাকে গালি দেয়া তাহলে উপরোউক্ত ব্যাক্তি যিনি কথায় কথায় গালি দেয় আর বিপরীত জনের হতে পাল্টা গালাগালি পাওয়ার অপেক্ষার প্রয়োজন আছে কি? অথচ, সেও নিজেও গালি পছন্দ করে না! কিন্তু, হাদিসের আলোকে দেখলে বিপরীত জনের আগে সে ব্যক্তিই নিজেই যেন নিজের মা,বাবাকে গালি দিচ্ছে! সে নিজেও জানে যে গালি দেয়া ঠিক নয় এটা নেহাত মন্দ কাজ ও ঘৃণিত। এছাড়া সে নিজেও তা পছন্দ করে না! সে তার নিজের নফসকে গালাগালি থেকে বাঁচিয়ে রাখলেই তো হয়।
আল্লাহ্ আমাদের ক্ষমা করুক। গালাগালি ও সকল প্রকার মন্দ কাজ হতে বিরত রাখুক। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ অতিদয়ালু ও ক্ষমাশীল। আরেকটি হাদিস ও আয়াত দিয়ে লেখা শেষ করলাম।
জাযাকাল্লাহু ফি খাইর।
"যার জিহ্বা ও হাত থেকে মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে সে ব্যক্তিই প্রকৃত মুসলিম। আর যাকে মানুষ তাদের জান ও মালের জন্য নিরাপদ মনে করে সে-ই প্রকৃত মুমিন।" (সুনানে আত তিরমিজী- ২৬২৭)
"আর যে তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, অতঃপর সৎ পথে অটল থাকে, আমি তার প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল।" (সূরা: ত্বহা, আয়াত: ৮২)

0 Comments