বেঁচে থাকতে কি আসলে অনেক টাকার দরকার, অনেক বিত্ত-বৈভব দরকার?

বেঁচে থাকতে কি আসলে অনেক টাকার দরকার, অনেক বিত্ত-বৈভব দরকার? 

নিজের ছন্নছাড়া পাগলাটে অর্থহীন ইচ্ছেগুলোকে পূরণ করা খুব দরকার, যখন এই জীবনটা খুবই ছোট ? কেমন ছোট ?



“ফেরেশতাগণ এবং রূহ আল্লাহ তা’আলার দিকে উর্ধ্বগামী হয় এমন একদিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর” [১]

.

দেখ ! এই ৫০০০০ হাজার বছর ধরে তোমাকে চেয়ে চেয়ে কেবল অপেক্ষাই করতে হবে, বাকিটা বাদ দিলাম, ৫০০০০ বছরের তুলনায় এই জীবনটা কত ছোট সেটা কি ভেবে দেখেছ ? ৫০-৬০ বছরের এই জীবনের তুলনায় যেন এক বিকেলের চা খাওয়া, এর বেশি তো কোনভাবেই নয় !


“প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে গাফেল রাখে যতক্ষণ না তোমরা কবরে উপনীত হও …” [২]


এই দুনিয়ার জীবনটা এমনই। আজ যখন তোমার মনে হচ্ছে, এটা ওটা ছাড়া তোমার চলে না, সেই এটা ওটাই তোমার কাছে খুব শীঘ্রই মূল্যহীন হয়ে যাবে, মৃত্যুকে যত কাছে অনুভব করবে তোমার ইচ্ছে হবে যেন অনন্তকাল বেঁচে থাকি। মনে হবে কিসের পেছনে ছুটেছি হোক সেটা কোর আই সেভেন ল্যাপটপ বা আইপড থেকে শুরু করে সী-ভিউ ফ্ল্যাট বা এক্স করোলা, এ সব কিছুই যেন ছোট্ট শিশুর টিপু সুলতানের তলোয়াড় হাতে বাহাদুরি !


“তারা স্বীয় ধর্মকে তামাশা ও খেলা বানিয়ে নিয়েছিল এবং পার্থিব জীবন তাদের কে ধোকায় ফেলে রেখেছিল” [৩]


তুমি কেন ভাবছ তোমার এই আরাম-আয়েশে কাটিয়ে দিলেই তুমি বেঁচে গেলে ? তুমি কি ভুলে গেছ এই জীবনটার পরে আরেকটা জীবন আছে? আরাম আয়েশের জন্য তো সে জীবনটা পড়ে আছে, এই জীবন তো আরামে কাটাবার জন্য নয় ! তুমি আজ হয়তো ভাবছ পাশের বাসার সে ছেলেটা একটা loser, কারণ তোমার মত স্মার্ট সে নয়, তোমার মত বাকপটু সে নয়, তোমার মত লোক হাসাতে তো পারে না, তোমার মত জ্ঞান গরিমা তার নেই, বরং দাড়ি আর টাকনুর উপরে কাপড় টেনে সে তোমার বন্ধুদের হাসির পাত্রে পরিণত হয়, অথচ আল্লাহ loser দের সংজ্ঞা দিয়েছেন,

বলুন, “আমি কি তোমাদেরকে সেসব লোকের সংবাদ দেব, যারা কর্মের দিক দিয়ে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত। তারাই সে লোক, যাদের প্রচেষ্টা পার্থিবজীবনে বিভ্রান্ত হয়, অথচ তারা মনে করে যে, তারা সৎকর্ম করেছে”[৪]

আমরা যখন আল্লাহর সামনে দাড়াব, তুমি কি জান তখন আমাদের হাতে কিছুই থাকবে না। না থাকবে পয়সা, না থাকবে বাড়ি গাড়ি। একদম একা। হাতে ধোয়া ওড়ানো সিগারেট থাকবে না, থাকবে না তোমার ব্র্যান্ডের শার্ট আর জুতো, চোখে থাকবে না রেভেন এর গ্লাস কিংবা পিঠ বেয়ে ঝুলবেনা গিবসন এর গিটার, যেতে হবে তোমাকে ঐ তিন টুকরো সাদা কাপড় জড়িয়েই। ক্বিয়ামাহর দিন তোমার সবচেয়ে কাছের মানুষটিও তোমাকে দেখে না দেখার ভান করে চলে যাবে। কি, বিশ্বাস হয় না ?

(সেদিন) বন্ধু বন্ধুর খবর নিবে না। যদিও একে অপরকে দেখতে পাবে।


“সেদিন গোনাহগার ব্যক্তি পনস্বরূপ দিতে চাইবে তার সন্তান-সন্ততিকে,তার স্ত্রীকে, তার ভ্রাতাকে,তার গোষ্ঠীকে, যারা তাকে আশ্রয় দিত। এবং পৃথিবীর সবকিছুকে, অতঃপর নিজেকে রক্ষা করতে চাইবে। কখনই নয়। নিশ্চয় এটা লেলিহান অগ্নি” [৫]

সেদিন তোমার কাছে “বলার মত” কি থাকবে সেটা জান? সেটা হচ্ছে এই দুনিয়াতে আল্লাহর জন্য তুমি কি কি করেছ। যে আল্লাহ তোমাকে ফ্রি ফ্রি এত কিছু দিলেন অথচ সেগুলো তুমি তার কাছে চাও নি ! যে আল্লাহ তোমাকে দৃষ্টি দিলেন, শোনার ক্ষমতা দিলেন, দিলেন তৃষ্ণা নিবারণের জন্য মিষ্টি মধুর পানি, হৃদয়ে দিলেন ভালবাসা নামক এক অদ্ভূত অনূভূতি, আবেগ দিলেন, চিন্তাশক্তি দিলেন, দিলেন আরো লিস্ট না করা অবিনিময়যোগ্য কত কি! সেদিন তোমার কত ব্যাংক ব্যালেন্স ছিল, তোমার গাড়ির মডেল কি Bugatti veron কিংবা Lamborghini ছিল কিনা, তুমি গার্লফ্রেন্ডকে খুশি করতে কি করেছ, তুমি লোক দেখানো কি করেছ, তোমার সিজি কি 3.95 ছিল নাকি 3.98 ছিল, লোকে তোমাকে স্মার্ট বলেছে নাকি cool বলেছে, সেগুলো কোনই কাজে আসবে না ! যদি কোন কাজে না আসে তবে কেন এগুলোকে তুমি জীবনের উদ্দেশ্য বানিয়েছ ? তুমি কেন নিজেকে ভুলিয়ে রাখছ, তুমি কেন মনে রাখতে চাচ্ছ না, তুমি কেন এই সত্যের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছ যে এই জীবনটা হল পথ, গন্তব্য নয় ? দুনিয়ার অতি স্বল্পমূল্যের কিছু স্বার্থের আশায় নিজেকে এই মহাসত্যকে ভুলে থাকার চেষ্টা করে তুমি কি নিজের সাথে প্রতারণা করছ না ?


এই যে তুমি জীবনের পূজায় ব্যস্ত হয়ে পড়ছ ভাই আমার, তুমি কি জান না এই জীবনটা, এই জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত, এই জীবনে করা তোমার কাজগুলো একসময় তোমার বিপক্ষে দাড়াঁতে পারে ? হাসি ঠাট্টায় ভরপুর তোমার এই ছোট্ট জীবনটা তোমাকে অনন্তকাল ধরে কাঁদাতে পারে, তুমি কি তা জান না ? তুমি কি এও ভুলে গেছ যে তুমি এই জীবনটাতে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কিছু ছেড়ে দিয়ে যদি সামান্য কষ্ট কর তবে তার বিনিময়ে শতগুণে ফেরত পাওয়া পুরুষ্কার তোমাকে অনন্তকালের জন্য প্রশান্তি দেবে ?


একটা মানুষের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ vital যে জিনিষটি, সেটি হল আল্লাহর প্রতি ঈমান। কারণ এই ঈমান না থাকলে এই দুনিয়াতে আমরা কে কি করেছি সেটা একটা অর্থহীন আলোচনা। একসময় এই পৃথিবীটা ধংস হবে, আমাদের বাড়ি গাড়ি ভাব পার্ট সবই চলে যাবে, যা থাকবে তা হল আমাদের সেইসব কিছু যা কেবল আমরা আল্লাহর জন্য করেছি।


এই মহাসত্যটা হয়তো মেনে নিতে তোমার কষ্ট হতে পারে, কিন্তু তবু এটা সত্য। তুমি শুনতে চাও না কেন আমি জানি না, শুনলেও বুঝতে চাওনা কেন আমি জানি না, আর বুঝলেও মানতে চাওনা কেন আমি জানিনা, সত্য হচ্ছে এটাই যে আমাদেরকে আল্লাহর সামনে দাড়াতে হবে। গান-মুভি আর আড্ডাবাজির মেকি জগতটার কি শেষ নেই? পারবে কি তোমার হোলি খেলার রঙ শেষ বিচারের দিনটাকে মুছে দিতে ?


“তোমরা জেনে রাখ, পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, সাজ-সজ্জা, পারস্পরিক অহমিকা এবং ধন ও জনের প্রাচুর্য ব্যতীত আর কিছু নয়, যেমন এক বৃষ্টির অবস্থা, যার সবুজ ফসল কৃষকদেরকে চমৎকৃত করে, এরপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তাকে পীতবর্ণ দেখতে পাও, এরপর তা খড়কুটা হয়ে যায়। আর পরকালে আছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। পার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ বৈ কিছু নয়”[৬]

হ্যা প্রতারণা, আর প্রতারণা বলেই মহান আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আর কোন পথ খোলা নেই। তুমি যেই হয়, তুমি যেখানে থেকেই আস, তুমি যা কিছুই করে থাক না কেন

Post a Comment

0 Comments

Translate

Contact Form

Name

Email *

Message *